মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৭ জুলাই ২০১৮

নীতি ও পরিকল্পনা

নীতি ও পরিকল্পনা  বিভাগ

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন- এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সফলতার সাথে বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয়ের অধীন নীতি ও পরিকল্পনা বিভাগ এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিভাগ হতে উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সকল প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরী করা হয়ে থাকে। নীতি ও পরিকল্পনা কি, কেন, কিভাবে করা হয় এবং এ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীসমূহ নিম্নে প্রদত্ত হলো।

১.০ নীতিঃ

প্রাতিষ্ঠানিক নীতি বলতে এমন এক ধারণা বা পরিকল্পনা গ্রহণকে বুঝায়, যা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের ভিত্তি হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

২.০ পরিকল্পনাঃ

পরিকল্পনা বলতে সাধারনত: কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য কতগুলি কার্যাবলীকে বুঝায় যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্জন করার জন্য নির্ধারণ করা হয়। পরিকল্পনা হলো ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-যার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য সুষ্ঠুভাবে এবং নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

 

৩.০ প্লানিং সাইক্ল:

৪.০ পরিকল্পনা কেন করা হয়?

যে কোন কাজ করার ক্ষেত্রে পূর্ব পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। কারণ ‘‘পরিকল্পনা বিহীন ব্যবস্থাপনা - হাল ছাড়া নৌকার মতো’’। তিনটি প্রধান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। যেমনঃ

  • উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্য।
  • প্রতিষ্ঠানের কর্মীবাহিনীকে সংঘবদ্ধ করার জন্য।
  • প্রতিষ্ঠানের কর্মীবাহিনীকে মনিটরিং, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করার জন্য।

 

বিশেষ কৌশল বা পদ্ধতির মাধ্যমে উল্লে­­খিত তিনটি উদ্দেশ্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব। একটি বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা ছাড়া কোন কাজের স্বার্থকতা আশা করা যায় না। প্রকল্প পরিকল্পনা, কৌশল পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও কর্ম-পরিকল্পনার মাধ্যমে কোন প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করা হয়। সুতরাং প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্যই হোক অথবা ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষেত্রেই হোক প্রতিনিয়তই আমাদের পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

৫.০ কতগুলি মৌলিক প্রশ্নের উত্তরের মধ্যে পরিকল্পনার প্রতিপাদ্য বিষয় নিহিত রয়েছে। যেমনঃ

 

সুতরাং উল্লেখিত প্রশ্নের জবাবের মধ্যে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার রুপ সম্পর্কে সুস্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়।

৬.০ পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়সমূহঃ

একজন পরিকল্পনাকারীকে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। যেমন:

 

৬.১ সময় ব্যবস্থাপনা:

যে কোন কাজকে সুষ্ঠু ও কার্যকরী ভাবে সম্পন্ন করতে হলে Time Frame থাকা বাঞ্জনীয়। কোন কাজ অনির্দিষ্টকাল সময় ধরে চলতে পারে না। তাই একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার জন্য সময় ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

৬.২ মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা:

পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে মানব সম্পদ বিশ্লে­ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন কাজ কে করবে এবং সে কাজটি করার জন্য কর্মীর দক্ষতা ও যোগ্যতা কতটুকু আছে-সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে একজন পরিকল্পনাকারী মানব সম্পদের ব্যবস্থাপনা করবেন। পরিকল্পনা প্রণয়ন তখনই বাস্তবধর্মী হয়, যখন দক্ষ মানব সম্পদের ব্যবহার বেশী গুরুত্ব পায়।

 

৬.৩ তহবিল ব্যবস্থাপনা:

যে কোন পরিকল্পনা সফল বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রয়োজনীয় তহবিল ছাড়া কোন অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব নয়। একটি কার্যকরী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সাথে অর্থনৈতিক বিষয়টি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।

 

৬.৪ Stakeholder Analysis:

Stakeholder প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, মূল্যায়ণ ও সুফলভোগের ক্ষেত্রে কোন না কোন ভাবে অংশগ্রহণ করে। অর্থাৎ একটি প্রতিষ্ঠানের Stakeholder প্রত্যক্ষভাবে ও পরোক্ষভাবে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ফলাফলের সাথে জড়িত। যেমন : পিডিবিএফ-এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ Stakeholder হিসাবে সমিতির সদস্য, কর্মী দল, গর্ভনিং বডি, সরকার, বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসনকে বিবেচনা করতে পারি। প্রতিষ্ঠানের যে কোন কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ণ ও ফলাফল ভোগের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লি­ষ্ট Stakeholder এর কথা বিবেচনাধীন রাখতে হবে।

 

৭.০ SMART Analysis:

যে কোন পরিকল্পনা হতে হবে সুনির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য। পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা হতে হবে অর্জনযোগ্য ও বাস্তব ভিত্তিক। এছাড়া একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা অতিব জরুরী।

 

৮.০ পরিকল্পনা প্রণয়নে SWOT Analysis - এর গুরুত্বঃ

পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের নিমিত্ত SWOT Analysis একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। এই Analysis এর মাধ্যমে যে কোন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক ও উপাত্ত সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। প্রাতিষ্ঠানিক এবং কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে SWOT Analysis এর মাধ্যমে কর্মীদের বিশ্লে­­ষণ ক্ষমতা বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য। ইংরেজী আদ্যাক্ষর দিয়ে আমরা SWOT শব্দটি নিম্নোক্ত ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারিঃ

৮.১ Strength (সবল দিক):

যে কোন প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা গ্রহণের অন্তরালে কিছু সবল দিক কাজ করে । পরিকল্পনা প্রনয়ণের সময় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সবল দিক সমূহ বিবেচনায় আনা অতিব জরুরী। এতে একটি বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা প্রণয়ন সম্ভব হয় এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তেমন কোন জটিলতা দেখা দেয় না।

৮.২ Weakness (দুর্বল দিক):

পরিকল্পনাধীন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় কিছু দূর্বল দিক পরিলক্ষিত হতে পারে। পরিকল্পনা প্রনয়ণের সময় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান দূর্বল দিক সমূহ বিবেচনায় আনা অতিব জরুরী। যেমন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারনের সময় কর্মীগণের কাজের দক্ষতা ও কর্মীর কর্মপরিবেশ বিবেচনা না করে  লক্ষ্যমাত্রা সমভাবে ধার্য করা হলে সে কর্মী বা কার্যালয়ের পক্ষে প্রদত্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অনেক সময় সম্ভব হয় না।

৮.৩ Opportunity (সুযোগ সুবিধা):

একটি সুন্দর পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কি কি সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে, সে বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। এতে করে পরিকল্পনাধীন কার্যক্রম সফল বাস্তবায়নের ফলে কর্মী এবং সুফলভোগীদের সুযোগসুবিধা প্রতিষ্ঠা হয়। বাস্তবধর্মী এবং চাহিদা ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের ফলে লক্ষিত জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার স্থায়ী উন্নয়ন ঘটে। অন্যথায় পরিকল্পনা ব্যর্থতায় পর্যবশিত হতে পারে।

৮.৪ Threat (ভীতি/বাঁধা):

পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যসমূহ যদি সংশ্লিষ্টদের চাহিদা/স্বার্থ সংশ্লিষ্ট না হয় তবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর্মীদের মতামত গ্রহণ না করে অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের উপর চাপিয়ে দিলে কর্মী অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ফলে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জন নাও হতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণে ত্রুটি হলে একটি প্রতিষ্ঠান অল্প সময়ের মধ্যে বিলুপ্তির ঘটনাও ঘটতে পারে।

৯.০ বার্ষিক কর্ম-পরিকল্পনা:

কোন প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে অনেক সময় সুন্দর প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবশিত হয়। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকে তারই বাস্তব পদক্ষেপ হলো বার্ষিক কর্ম-পরিকল্পনা। বার্ষিক কর্ম-পরিকল্পনায় প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও মনিটরিং-এর ব্যবস্থা থাকে। বাস্তবায়নের সুবিধার জন্য বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনাকে ষান্মাসিক, ত্রৈমাসিক, মাসিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে বিভক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রহণকৃত কার্য‌ক্রমের ভুল-ত্রুটি, সীমাবদ্ধতা বিচার বিশ্লেষণ করে পরবর্তী কার্য‌ক্রমের পরিকল্পনায় প্রায়োগ্রিক ক্ষেত্রে বাস্তব ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, সুষ্ঠু দায়িত্ব বন্টন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা এবং পরিধারণ ও মূল্যায়ন করা সহজ হয়।

১০.০ প্রকল্প কি?

প্রকল্প (Project) শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ‘PROJICCARE’ হতে উদ্ভুত যার অর্থ TO Throw Forth অর্থাৎ অগ্রে নিক্ষেপ করা। এটি বর্তমানে নানাভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। Encyclopedia of Management অনুসারে প্রকল্প হলো একটি সংগঠিত ইউনিট যারা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচীর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নির্দিষ্ট বাজেট ও সঠিক সময়ে উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে উন্নয়ন কর্মসূচী সম্পাদনে মনোনিবেশ করে। সর্বোপরি বলা যায়, প্রকল্প হলো একটি কার্যক্রম যাহা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পুরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হয়। সরকারী প্রকল্প প্রস্তাবনা মূলত: দুই (০২) প্রকার। যথা-

১। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (Development Project Proposal-DPP)

২। কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাবনা (Technical Assistance Project Proposal-TAPP).

 

১১.০ প্রকল্প পাথওয়েঃ

১২.০ পিডিবিএফ এর নীতি ও পরিকল্পনা বিভাগের  গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীসমূহ নিম্নে প্রদত্ত্ব হলোঃ

..................o................

 

 

 


Share with :

Share with :

Facebook Facebook